শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১২:৩২ অপরাহ্ন
৩০৭ নম্বর কক্ষে ধরা পড়া, এবার রাবিতে ঝড়!
অনলাইন ডেস্ক
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ফাইন্যান্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ও এমবিএ শ্রেণির এক ছাত্রীকে আপত্তিকর অবস্থায় আটকের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কড়া অবস্থান নিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৩৯তম সিন্ডিকেট সভায় বৃহস্পতিবার (২২ মে) দুজনকেই সাময়িক বরখাস্ত এবং বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানান উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ মাঈন উদ্দিন।
তিনি বলেন, “তদন্ত প্রতিবেদন জমা না দেওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত শিক্ষক ও ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো একাডেমিক কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন না।” পাশাপাশি, ঘটনায় গভীর অনুসন্ধানে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এর আগে ২১ মে ফাইন্যান্স বিভাগের একাডেমিক সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দুজনকে বিভাগীয় কার্যক্রম থেকেও অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল।
ঘটনার সূত্রপাত ১১ মে সন্ধ্যায়, যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাডেমিক ভবনের ৩০৭ নম্বর কক্ষে আপত্তিকর অবস্থায় ওই শিক্ষক ও ছাত্রীকে হাতেনাতে আটক করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই সাংবাদিক ও দুই শিক্ষার্থী। এই ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সৃষ্টি হয় তোলপাড়।
পরবর্তীতে ওই শিক্ষক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, ভিডিও প্রকাশ না করার শর্তে এক সাবেক সমন্বয়ক, দুই সাংবাদিক এবং এক শিক্ষার্থী তার কাছে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। ছাত্রীটিও সাংবাদিক সম্মেলনে একই অভিযোগ তোলেন। তবে অভিযুক্ত সাংবাদিক সাজ্জাদ হোসেন সজীব ও সিরাজুল ইসলাম সুমন চাঁদাবাজির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন।
তবে বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ার পর উভয় সাংবাদিককে চাকরিচ্যুত করা হয়। সজীব ছিলেন দৈনিক কালবেলার প্রতিনিধি ও রাবিসাসের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং সুমন ছিলেন খবরের কাগজের প্রতিনিধি ও রাবিসাসের সহসভাপতি। পরে সাংবাদিক সমিতি থেকেও তাদের অব্যাহতি দেওয়া হয়।
এদিকে হেদায়েত উল্লাহ ২০ মে মতিহার থানায় মামলা দায়ের করেন চাঁদাবাজির অভিযোগে। অভিযুক্ত চারজন হলেন সাবেক সহসমন্বয়ক, দুই সাংবাদিক, আইবিএর দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আতাউল্লাহ এবং আইন বিভাগের শিক্ষার্থী নাজমুস সাকিব। সামাজিক মাধ্যমে টাকা লেনদেনের একটি অডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে হেদায়েত উল্লাহ ও সাকিবের কথোপকথন শোনা যায়।
ঘটনার পরদিন ফাইন্যান্স বিভাগের শিক্ষার্থীরা সংবাদ সম্মেলন করে অভিযুক্ত শিক্ষক, ছাত্রী এবং চাঁদাবাজির অভিযোগে অভিযুক্ত চার শিক্ষার্থীর স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানান। ঠিক পরদিনই সিন্ডিকেট সভায় বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়, যা নতুন মোড় দেয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এই বিতর্কিত ঘটনায়।